আব্দুর রশিদ(সাতক্ষীরা)সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী এলাকায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বালু ভর্তি মিনি ট্রাক ও ট্রলির বেপরোয়া চলাচল। ঝাপালী নদীর ধার থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত সড়কে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীরা। এ অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝাপালী নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য বালু বোঝাই মিনি ট্রাক ও ট্রলি শ্যামনগরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই অতিরিক্ত বালু বহন করছে এবং নির্ধারিত গতিসীমা তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।বিশেষ করে কাশিমাড়ী থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে অবস্থিত একাধিক নূরানী মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাই স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সকাল ও দুপুরে স্কুল ছুটির সময় বালুবাহী ট্রাক ও ট্রলির সঙ্গে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের চলাচল এলাকাটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাই। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়—এই ভয়ে থাকি। এত বড় ঝুঁকির বিষয় হলেও দেখার যেন কেউ নেই।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভারী ট্রাক ও ট্রলির কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বালুবাহী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, নির্দিষ্ট সময় ও রুট নির্ধারণ করতে হবে এবং অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের সামনে গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) বসানো ও নিয়মিত ট্রাফিক তদারকির ব্যবস্থারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—এমন আশঙ্কাই এখন কাশিমাড়ীবাসীর মুখে মুখে।