সুমন মাহমুদ শেখ/স্থনীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের পর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের বদলি আদেশ বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বিকেলে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।এর আগে গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। ওই আদেশের পরদিন সকালে এলাকাবাসী ইউএনও'র বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেন।মানববন্ধনের কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে প্রথমে বদলি আদেশ বহাল রেখে কেবল তাৎক্ষণিক অবমুক্তির নির্দেশ স্থগিত করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই বদলির আদেশও পুরোপুরি প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, "জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশ বাতিল করেছে।"জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া বাজারে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান গিয়ে ইউএনও'র প্রতি নীতিবহির্ভূত অশালীন আচরণ করেন। তিনি বলেন, "আমার ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আমাকে বলে করতে হবে।"ইউএনও চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের আইনগত ব্যাখ্যা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান দাবি করেন- "এটি ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে।" ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।পরবর্তীতে সমালোচনার জেরে গত ১৮ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে।কলমাকান্দায় ইউএনও'র আইনগত পদক্ষেপ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘আইনানুযায়ী কাজ করায় একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি করা অনুচিত ছিল। তাই তারা এ আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্ছার ছিল। অবশেষে তারা সফল হয়েছে।