জহর হাসান সাগর/ নকল ও ভেজাল সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকরামুল ইসলাম। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জী, সময় টিভির মমতাজ আহমেদ বাপী, এটিএন বাংলার কামরুজ্জামান, আরটিভির রাম কৃষ্ণ চক্রবর্তী, একাত্তর টিভির বরুণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এর সাধারন সম্পাদক ও বাংলাভিশনের আসাদুজ্জামান আসাদ, এনটিভির এস এম জিন্নাহ, এশিয়ান টিভির মশিউর রহমান ফিরোজ, ডিবিসির বেলাল হোসেন, স্টার নিউজের গাজী ফারহাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।বক্তারা অভিযোগ করেন, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ও কুল্যা এলাকায় অবৈধভাবে অন্তত ২৬টির বেশি নকল ও ভেজাল সারের গুদাম গড়ে তুলেছেন কুল্যা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাজেদ গাজী। তার স্ত্রী ও দুই পুত্রের নামে বাংলাদেশ সার উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বিসিআইসির পাঁচটি লাইসেন্স ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। নকল সার সংক্রান্ত অনুসন্ধান চালাতে গেলে সাংবাদিক আকরামুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।মানববন্ধনে আরও বলা হয়, শুধু ভেজাল সার বাজারজাতকরণই নয়, সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগের একটি অংশ সরাসরি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। আশাশুনি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ওই এলাকায় ভেজাল সার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।গত ১৫ জানুয়ারি সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে কৃষকরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন বক্তারা।মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে হামলাকারী মাজেদ গাজী ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং নকল সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জেলার সকল সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।