সুমন মাহমুদ শেখ (স্টাফ রিপোর্টার) নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরীর রাজীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। জরাজীর্ণ স্কুল ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। শিক্ষার্থীদের জন্যে নেই খেলার মাঠ, নেই স্থায়ী শহীদ মিনার; যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবনের জরাজীর্ণ দেয়ালে বড় ধরণের ফাটল রয়েছে এবং ছাদের একাধিক অংশ নড়বড়ে অবস্থায় আছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এই আশঙ্কা নিয়েই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করছেন। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকগণ থাকেন দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে।চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “ক্লাস চলাকালে সবসময় ভয় কাজ করে, কখন যে ধ্বসে পড়ে আমাদের মাথার উপর।” আরেক শিক্ষার্থী বলে, “তারা নিরাপদ নতুন ভবনে পড়াশোনা করতে চায়।”বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এরফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন অভিভাবক মহল।প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা কলাগাছ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। একটি স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের এ অবস্থার কথা উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এক অভিভাবক বলেন, “আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাই।”শিক্ষকরাও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মৌলা বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দু’পক্ষই অনিরাপদ ও আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি দ্রুত নতুন ভবন, খেলার মাঠ ও স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান।এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব জামান বলেন, “বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ, খেলার মাঠের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে রাজীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করা হোক।