চয়ন চৌধুরী, ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক/নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় প্রেমে ব্যর্থ হয়ে যুবরাজ চন্দ্র তালুকদার (২২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।শনিবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের আখড়া রোডে এ ঘটনা ঘটে।আজ রবিবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নিহত প্রেমিক যুবরাজ চন্দ্র তালুকদার সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার মদনাকান্দি গ্রামের দেবল চন্দ্র তালুকদারের ছেলে। সে গত প্রায় ৮ মাস যাবত পাশের নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের কাচারি রোডস্থ সুবল চন্দ্র পালের মোদি দোকানে কর্মচারি হিসেবে চাকুরি করে আসছিলেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকান কর্মচারি যুবরাজ চন্দ্র তালুকদার গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি ভ্যান নিয়ে শহরের আখড়া রোডের থাকা দোকান মালিকের একটি গুদাম থেকে মালামাল আনতে যান। পরে দীর্ঘ সময় পরও মালামাল নিয়ে দোকানে আসেননি যুবরাজ। পরে সাড়ে পাঁচটার দিকে দোকান মালিক গিয়ে দেখেন গুদামের ভেতর আড়ার সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলে আছে যুবরাজ। খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতে যুবরাজের বাবাসহ পরিবারের লোকজন থানায় যান। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়।এদিকে মৃত্যুর পর যুবরাজের স্মার্টফোনে এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার বিষয়ে তার বন্ধুদের কাছে পাঠানো অসংখ্য ম্যাসেজ পাওয়া গেছে। এই কষ্টে আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত রয়েছে।ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর আগে যুবরাজ কোন এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার বিষয়ে তার বন্ধুদের অসংখ্য ম্যাসেজ দিয়ে বলে গেছেন। এ নিয়ে তার মনে অনেক কষ্ট ছিল। যুবরাজের স্মার্টফোনে এমন অসংখ্য চ্যাট রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে অন্যকোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আলামত দেখে এটিকে আত্মহত্যা মনে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে যুবরাজের বাবা, ভাই, ভগ্নিপতি ও সেখানকার ইউপি সদস্যসহ পরিবারের অনেক সদস্য এসেছিলেন। এ বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ নেই। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ওই রাতেই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।