চয়ন চৌধুরী/নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খ্যাত খালিয়াজুরীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রকে মাথায় ফ্রিজের বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে গুরুতর আহতাবস্থায় ওই ছাত্রকে প্রথমে পাশের মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
এর আগে উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম কাউসার আহমেদ। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। আর আহত ছাত্রের নাম মুগ্ধ তালুকদার। সে পাশের বরান্তর গ্রামের হানিফ তালুকদারের ছেলে এবং রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্কুলছাত্র মুগ্ধর বাবা-মা কাজের সন্ধানে ঢাকায় বসবাস করেন। আর মুগ্ধ তার নানার বাড়ি বরান্তর গ্রামে থেকে পাশ্ববর্তী রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে।আহত ওই স্কুলছাত্রের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দুষ্টুমি করছিল। এসময় সহকারী শিক্ষক হানিফ আহমেদ ক্ষুব্ধ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ফ্রিজে থাকা বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন।
আঘাতের পরপরই মুগ্ধ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে সহপাঠী ও উপস্থিত লোকজন মাথায় পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরায়। এরপর এ বিষয়ে শিক্ষক তাকে বাড়িতে কিছু না বলতে হুমকি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি ফেরার পর রাতে কয়েক দফা মুগ্ধ জ্ঞান হারায়, বমি করে এবং তার কান দিয়ে রক্ত বের হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে রাত কাটান। মঙ্গলবার সকালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ সরকার বলেন, “মাথায় আঘাতটি জটিল মনে হচ্ছে। রাতে বমি করেছে, কয়েকবার অজ্ঞান হারিয়েছে। এসব লক্ষণ ভালো নয়। সিটি স্ক্যান করে অবস্থা বুঝতে হবে।তিনি আরও বলেন, “রোগীর অবস্থা বিবেচনায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানায়, শিক্ষক কাউসার উশৃংখল ধরণের। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের এভাবে মারধর করেন তিনি।আহত মুগ্ধর খালা মুক্তা খান বলেন, মুগ্ধর বাবা-মা এলাকায় থাকে না। আমরাই তার গার্ডিয়ান। পোলাপানের দুষ্টুমির কারণে ফ্রিজে থাকা বরফে জমাট বাঁধা পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন শিক্ষক কাউসার। সাথে সাথেই জ্ঞান হারায় মুগ্ধ। সহপাঠী ও অন্যরা মিলে পানি ঢেলে তার জ্ঞান ফেরায়। বাড়িতে ফেরার সময় হুমকি দিয়ে বলে-বাড়িতে এসব বললে আবার পেটাব এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেব। রাতে আরও কয়েকবার অজ্ঞান হয়েছে মুগ্ধ। আমরা এ ঘটনায় সঠিক বিচার চাই।অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।এবিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমার সাথেই রয়েছেন, এ বিষয়ে কথা বলতেছি তাঁর সাথে। বিষয়টা আমি দেখতেছি।তিনি আরো বলেন, নেত্রকোনায় সাংবাদিকের সভাপতিসহ আমার অনেক নাতী-নাতকর সাংবাদিক আছে। সবকিছুর মধ্যে আপনারা হাত দিলে কেমনে চলব? বিষয়টা সমাধান করতে দেন। আগামীকাল শিক্ষা অফিসার বিষয়টা তদন্তে যাবেন। এটা আমি দেখতেছি।বিষয়টি অবহিত করলে খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজিমেল কদর (চলতি দায়িত্ব) বলেন, এখনো এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। আপনার থেকেই প্রথম জানলাম। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।