
আব্দুর রশিদ (সাতক্ষীরা) সাতক্ষীরার সদর তালা আশাশুনি দেবহাটা সহ বিভন্ন। উপজেলায় বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। ভোরের নির্মল বাতাসে ভেসে বেড়ানো মুকুলের মিষ্টি সুবাসে পুরো জনপদ যেন হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত ও মোহময়। গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়া এই ঘ্রাণ মনে করিয়ে দেয় পল্লীকবি জসীম উদ্দিন–এর ‘মামার বাড়ি’ কবিতার সেই চিরচেনা পংক্তিমালা।সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, পুকুরপাড় কিংবা বিস্তীর্ণ আমবাগান—সবখানেই গাছের ডালে ডালে হলুদ-সবুজ মুকুলের সমারোহ। কোথাও কোথাও মুকুলে ঢেকে গেছে পাতাও। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া মৌ মৌ গন্ধ সহজেই মনকে করে তোলে বিমোহিত।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর আমগাছে মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাদের মতে, এমন মুকুল ভালো ফলনেরই ইঙ্গিত দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাতক্ষীরা জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠছে নতুন নতুন আমবাগান। ফলে এলাকাটি ধীরে ধীরে ‘আমের রাজ্য’ হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।চাষিরা জানান, হিমসাগর, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলিসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে। পুরোপুরি ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। মুকুল আসার পর থেকেই বাগান মালিকদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে আগাছা পরিষ্কার, সেচ দেওয়া ও গাছের পরিচর্যার কাজ।এ সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রোগবালাই প্রতিরোধে। চাষিদের ভাষ্য, মুকুলের সময়টিই সবচেয়ে স্পর্শকাতর। ছত্রাক বা পোকার আক্রমণ হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হচ্ছে।সাতক্ষীরার বাগান মালিক মোহাম্মদ আলী “গাছভর্তি মুকুল দেখলে মন ভরে যায়। এই মুকুলই আমাদের স্বপ্ন ও আশা। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছি।”প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য আর আমের মুকুলের ঘ্রাণে তালার গ্রামাঞ্চলে বইছে উৎসবের আমেজ, আর কৃষকের চোখে ভাসছে সোনালি দিনের স্বপ্ন।