
স্টাফ রিপোর্টার(খালিয়াজুরী থেকে)নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার নুরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেডেন্ট হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার সম্পত্তি থেকে আয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন একই এলাকার জনৈক আলী আমজাদ আকন্দ।অভিযোগে বলা হয়,হারুনুর রশিদ একজন অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি। নুরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার অধীনে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফসলি জমি ও জলমহাল রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার জলমহাল ও জমিজমা ইজারা দিয়ে এবং মাদ্রাসার আয় থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।অভিযোগকারী দাবি করেন, এই আত্মসাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি এলাকার চিহ্নিত কিছু বিতর্কিত ও তার নিজস্ব বলয়ের আওতাধীন কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহার করে গোপনে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা থেকে একটি এডহক কমিটি অনুমোদন নিয়ে আসেন। যাতে তাঁর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কেউ জানতে না পারে এবং ভবিষ্যতে এসবের কর্তৃত্ব তার হাতে থাকে।এহেন পরিস্থিতিতে এলাকার প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ও মাদ্রাসার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে গত ১১ই জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আলী আমজাদ আকন্দ। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন বাতিল এবং সংঘটিত অনিয়ম ও দর্নীতির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ,মাদ্রাসার মতো একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহা করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী এসব অনৈতিক ও দুর্নীতির হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করার দাবি জানায়।এ বিষয়ে অভিযুক্ত হারুনুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় এত আয় নাই যে, “আমি উল্লেখিত টাকা আত্মসাত করতে পারি। এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি ভিত্তিহীন।খালিয়াজুরী উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি আলী হাসান পিন্টু বলেন, “অত্র গ্রামের প্রতিষ্ঠানটি একটি ধর্মীয় শিক্ষালয়। এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিতর্কিত কোন লোককে এডহক কমিটির আহ্বায়ক কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে কাজটি বারবারই মাদ্রাসার সুপার নিজ স্বার্থে করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের সুপার ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে অর্থের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। যার কারণে তিনি এলাকাবাসীর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত লোকদেরকে এডহক কমিটিতে আহ্বায়ক করে তার নিজস্ব বলয়কে শক্তিশালী করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে খালিয়াজুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “এমন ধরণের কোন অভিযোগ আমি পাইনি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত কোন অনুলিপি পেয়েছেন কিনা তদুত্তরে তিনি বলেন এমন ধরণের কোন কপি আমার কাছে আসেনি।