
পরেশ দেবনাথ, (নিজস্ব প্রতিনিধি) যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে ২৮ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো হারানো আসন ফিরে পেল জামায়াত ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি-২৬) যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ শুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। মোট ভোটারের সংখ্যা: ২২৬৪২৩, মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা: ৮১, ফলাফল প্রাপ্ত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা সংখ্যা: ৮১। প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা-১৭৬৩৪৭, মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা-১৭৩২৩১, বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা: ৩১১৬ এবং প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার: ৭৭.৮৮%।এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী ৯১ হাজার ১৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য পদে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩২১ ভোট। এ ছাড়া অপর তিন প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের শহিদুল ইসলাম এক হাজার ২৭৫ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের জি এম হাসান ৯৬০ ভোট, ঈগল প্রতীকের মাহমুদ হাসান ৬৫৭ ভোট পেয়েছেন।বৃহস্পতিবার রাতে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন স্বাক্ষরিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর বেসরকারি ফলাফল এ তথ্য জানা গেছে। অধ্যাপক মোক্তার আলী কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির। এর আগে ১৯৯১ সালে যশোর-৬ আসন হতে জামায়াত ইসলামী থেকে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আসন থেকে নির্বাচিত হলেন। ১৯৭৯ সালে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে একবারই বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগ) আব্দুল হালিম, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আব্দুল কাদের, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শেখ আব্দুল ওহাব, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের ইসমাত আরা সাদেক, ২০২০ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার, ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র আজিজুল ইসলাম (ছাত্রলীগ নেতা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ ২৮ বছর যশোর-৬ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সদ্য নির্বাচিত হয়ে মোঃ মোক্তার আলী তাঁর কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে কে ভোট দিলো আর না দিলো সেটা চিন্তার বিষয় নয়।পরস্পরকে ভালোবাসতে হবে। কোন হিংসাদ্বেষ থাকবে না। ভালোবাসা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা বন্ধনে আবদ্ধ থেকে সবাইকে নিয়ে নিরলসভাবে সুন্দর কেশবপুর গড়ার কাজ করে যেতে হবে।