
শাহ আলম কৌশিক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর এক ব্যতিক্রমী ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বইছে প্রশংসার জোয়ার। বিজয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা ইতোমধ্যেই ঈশ্বরগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন“আমি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতে চাই না। একজন বড় শিক্ষাবিদ বা খেলোয়াড়কে খুঁজে আনবেন। আমার থেকে পদে ছোট কারো নামের পরেও যদি আমার নাম থাকে, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। নতুন ঈশ্বরগঞ্জ চাই, নতুন বাংলাদেশ চাই। ছাত্রদের অনুপ্রেরণার জায়গায় থাকতে চাই, প্রধান অতিথি হিসেবে নয়।এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া পড়ে। কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা বলছেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন আত্মমর্যাদাবোধ ও শিক্ষাবান্ধব মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেকে মন্তব্য করেন এমন নেতারাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারেন।লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু আরও লেখেন, বিজয় মিছিল বা সংবর্ধনা আয়োজন না করার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছেন তিনি। কোনো বিজয় মিছিল নয়, কোনো সংবর্ধনা নয়, কোনো ফুল নয় বিশেষ করে কোনো শিক্ষক তো নয়ই। আপনাদের কাজ যত দ্রুত সম্ভব ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়া এবং শিক্ষার পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। দেখা হবে স্কুলে স্কুলে।ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সংসদ সদস্য নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগেই প্রায় ১৭ বছর ধরে এলাকায় শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে গেছেন।কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নগদ সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণও তার সেই ত্যাগ ও কর্মপ্রচেষ্টার প্রতিদান দিয়েছেন। রাজনীতিতে যেখানে পদ-পদবী আর আনুষ্ঠানিকতার দৌড় চলে, সেখানে তিনি দিলেন ভিন্ন বার্তা ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, দায়িত্বশীল নেতৃত্বই হোক মূল পরিচয়।১৭ ই ফেব্রুয়ারি রাত আট টার দিখে তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ঈশ্বরগঞ্জের সব বাজারে খাজনার চার্ট টানিয়ে তারপর খাজনা আদায় করতে হবে। ঈশ্বরগঞ্জের সব বাজারে খাজনার চার্ট টানিয়ে তারপর খাজনা আদায় করতে হবে। প্রান্তিক কৃষকদের খাজনা শতকরা ৫% নিতে হবে। সব বাজারে ব্যবসায়ীরা মিলে খাজনার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হোন।সবাই শপথ করুন, চার্ট না টানানো পর্যন্ত কেউ খাজনা দিবেন না। আর যারা বাজার নিয়েছেন, কেউ যদি নিয়মের বাহিরে আদায় করুন তার নামে প্রমান পাওয়া মাত্র চাঁদাবাজির মামলা হবে।ঈশ্বরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই এই মানসিকতা বাস্তব উন্নয়নের রূপ নিক, আর নতুন ঈশ্বরগঞ্জ, নতুন বাংলাদেশ” হোক বাস্তবতার দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি।