
পরেশ দেবনাথ(নিজস্ব প্রতিনিধি)যশোরের মনিরামপুরে মানবিক একজন সফল আঙ্গুর চাষী আকবর আলী ভাই। দীর্ঘদিন নৌবাহিনীর সদস্য থাকার পর অবসর জীবনটায় বেছে নিয়েছেন আঙ্গুর চাষ। কৃষি উদ্ভাবনা মন নিয়ে তিনি যশোর জেলাকে ২য় কাশ্মীর বানাতে চান। কাশ্মীরে ভালো আঙ্গুর হলে বাংলাদেশের এতো সুন্দর মাটিতে কেনো আঙ্গুরফল হবে না।আঙ্গুরফলের প্রচুর দাম হওয়ায় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এই সুস্বাদু ফল থেকে বঞ্চিত থাকেন। গরীব-অসহায় ব্যক্তিরা রোগীর জন্যও দুটো আঙ্গুরফল কিনে খেতে দিতে পারেন না। চাকুরী থেকে অবসরে যাওয়ার পর কৃষি উদোক্তা হিসেবে আঙ্গুরফলের চাষটি বেছে নিয়েছেন এই কৃষি উদ্যোক্তা।মানবিক কৃষি উদ্যোক্তা আকবর আলী সরদার (৫৩) যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চী গ্রামের নিজ বাসভবনের পাশে মাঠের মধ্যে ৫৬ শতক জমির ওপর গড়ে তুলেছেন একটি আঙ্গুর বাগান। প্রতিদিন ৪০/৫০ জন দর্শনার্থী এবং আঙ্গুর গাছ ক্রেতা এখানে আসেন। এতে তিনি কোনপ্রকার বিরক্তবোধ করেন না। আঙ্গুরফল খেয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা। অনেকে জানিয়েছেন, আকবর ভাইয়ের আঙ্গুর বাগানে উৎপাদিত আঙ্গুর বেশ সুস্বাদু এবং মিষ্টি। এখানে আসলে যেন মন জুড়িয়ে যায়।হাসোজ্জল মানবিক কৃষি উদ্যোক্তা আকবর আলী জানান, “আমি দর্শনার্থীদের জন্য আঙ্গুর বাগান উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আপনার আসেন এবং আমার বাগানে আঙ্গুরের স্বাদ গ্রহন করেন।” এতো উদার মনের মানুষ খুব কমই মেলে।তিনি দর্শনার্থীদের খাবার জন্য নিজেও ফল পেড়ে দিচ্ছেন। স্ত্রীও তার এই কৃষি কাজে উৎসাহ দেন এবং নিজ হতে ফল পেড়ে দিয়ে তৃপ্তি পান। তারা উভয়ই মানব সেবামূলক কাজে নিয়োজিত আছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখি সংসারে কোনো অভাব নাই। নিজে অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর সদস্য এবং স্ত্রী যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে চাকুরীরত।এই কৃষি উদোক্তা আঙ্গুর চাষী দুই বছর আগে ৪৬ শতক জমিতে ৪৬৬ টি আঙ্গুর গাছের চারা লাগিয়েছিলেন। এই খামার থেকে গত বছর প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে দেড় লক্ষ টাকার উপরে আঙ্গুর বিক্রি করেছেন। এবছর এই বাগানের আঙ্গুর বিক্রি না করে দর্শনার্থীদের দেখা এবং খাবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।এই মানবিক কৃষক গত বছর নতুন করে ১০ শতক জমিতে ১৩০ টি চারা লাগিয়েছেন, সেটায়ও ফল ধরেছে প্রচুর। মোঃ জয়নাল আবেদিন ও নিরঞ্জন মণ্ডল নামে ২ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করেন।পাশাপাশি তিনি আঙ্গুর গাছের চারাও বিক্রি করেন। তিনি জানান, তার চারা ক্ষেতে দেড় ফুট থেকে ২ ফুট লম্বা বাইকুনুর ও একোলো এই দুই জাতের ১৮ হাজার চারা আছে। সকলে লাগাতে পারেন এমন অল্পমূল্যে এগুলো বিক্রি করে থাকেন। বড়ো আঙ্গুর বেডে ১২ টি সারি আছে। ৫ ফুট অন্তর চারার সারি, এক সারি থেকে আর এক সারির দূরত্ব ৮ ফুট। থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর ফলের থলি, দেখলে যেন মন জুড়িয়ে যায়। তিনি জানান, এখনই চারাগাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। মাঘ মাসের ২০ তারিখ থেকে ফাল্গুন মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত কাটিং-এর সময়। চারা লাগানোর ৬ মাস পর ফুল আসবে।শণিবার (০২ মে-২৬) সরেজমিনে আঙ্গুর বাগানে দেখা হয়ে গেলো মঙ্গলকোট রংমহল নাট্যসংস্থার সভাপতি আবুল কাশেম মোড়ল ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন সরদার-এর সাথে। মণিরামপুর থেকে এসেছেন দৈনিক গ্রামের কাগজের মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ও দৈনিক গ্রামের কাগজের মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর প্রতিনিধি সানোয়ার হোসেন তিতু এবং স্থানীয় আরও কয়েকজন।আঙ্গুর চাষী আকবর ভাই আরও জানান, যশোর, খুলনা, সিলেট, ঢাকা, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগা, নাটোর কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চারার অর্ডার আসে এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠাতে হয়।আঙ্গুর বাগান বাড়িতে কিভাবে যাবেনঃ মনিরামপুরে আকরাম মোড় থেকে পশ্চিম দিক এসে চাঁদপুর থেকে একটু বামহাতে তাকালেই আকবর ভাইয়ের আঙ্গুর বাগান দেখা যাবে। আকবর আলী ভাইয়ের সাথে যোগাযোগের ফোন নাম্বার