
নিজস্ব প্রতিবেদক/ ‘হিম কুয়াশায় কলরবে মাতবো পিঠা উৎসবে’—এই চমৎকার প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ২ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ২০২৬। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়।বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবে সভাপতিত্ব করেন বেতাগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হেলেনা খাতুন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মাষ্টার নেসার উদ্দিন সানা এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ সেলিম রেজা।উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক উজ্জল কুমার সানা, দীপ্তি রানী, নাসরিন আক্তার, সন্ধ্যা সরদার এবং মোঃ তরিকুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।উৎসবে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি শ্রেণি থেকে একটি করে মোট ৫টি স্টল বসানো হয়। স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছিল বাহারি সব পিঠা,যার মধ্যে ছিল,
ভাপা পিঠা,চিতই পিঠা,পাটিসাপটা,নকশি পিঠা,পুলি পিঠা ও দুগ্ধ পুলি, মালপোয়া এবং আরও অনেক স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পিঠা।পিঠা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় গান, নাচ এবং আবৃত্তি উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। শীতের সকালে পিঠার সুবাস আর শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। মাষ্টার নেছার উদ্দিন সানা বলেন,”আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পিঠা উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। যান্ত্রিকতার এই যুগে আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের শিকড়কে ভুলে না যায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রতিবছর এই ধরনের আয়োজন করে থাকি।দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে, যেখানে শ্রেষ্ঠ স্টল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।