
সুমন মাহমুদ/ শেখনেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অমুসলিম শাখার খালিয়াজুরী উপজেলা শাখার সভাপতি অরুণ বিশ্বাস নামে এক নেতার উপর হামলার হুমকি ও নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র এক নেতার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন খালিয়াজুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম।
গতকাল বৃহস্পতিবার খালিয়াজুরী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন খালিয়াজুরী উপজেলার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অমুসলিম শাখার সভাপতি অরুণ বিশ্বাস।
অরুণ বিশ্বাস তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একই এলাকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উপজেলার ২নং চাকুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সভাপতি বাবুল চৌধুরী ও তার সহযোগীরা তাকে এবং তার সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ জানুয়ারি বাবুল চৌধুরী জামাতের কর্মী-সমর্থদের উদ্দেশে বলেন- “যারা জামায়াতের পক্ষে কাজ করছে, নির্বাচনের পরে তাদের দেখে নেওয়া হবে এবং বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশছাড়া করা হবে।”এছাড়াও অভিযোগকারী বলেন- নির্বাচনের দিন জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট হিসেবে প্রবেশ করতে এবং সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।অরুণ বিশ্বাস তার অভিযোগে আরও জানান, বর্তমানে তিনি এবং তার কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসন্ন নির্বাচনে একটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এবং নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে চাকুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক দাবি করে বাবুল চৌধুরী বলেন, “ধর্মস্থ আমি এসবের কিচ্ছু জানি না। আমি শপথ কইরা কইতারি আমি এ ব্যাপারে কিচ্ছুই জানি না। আমি কোনো কিছু আলাপই করছি না। এইডা হইলো গিয়া, অহন আমার হুদাহুদি একটা বদনাম বাইর করন আর কি। অহন সামনে নির্বাচন, এইডা লইয়া আমি ব্যস্ত।”সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘আরপিও’-তে যে নির্দেশনা আছে, ‘আরপিও’-র নির্দেশনা অনুযায়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে” বলে জানান তিনি।