
“কেন্দ্রে কোন রকম গোলমাল বরূাশত করবো না।” হেলাল তালুকদা
সুমন মাহমুদ শেখ/ হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নেত্রকোণা-৪ আসন (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) জুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছে ১০ দলীয় জোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে গ্রাম-গঞ্জে টানা গণসংযোগ ও পথসভা চালাচ্ছেন জোট মনোনীত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার ও জোটের নেতাকর্মীরা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দুপুরের দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আল হেলাল তালুকদার বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। পথসভায় তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “এই বরান্তর গ্রামে কি কেউ দাঁড়িপাল্লার লোকজন বা আমাদের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে? এ সময় উপস্থিত জনতা একযোগে উচ্চস্বরে জবাব দেন “না”। জনতার এই সাড়া পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আল হেলাল তালুকদার বলেন, “বরান্তর গ্রামের মানুষ যে সচেতন ও বিবেকবান, তা আজ বুঝতে পারলাম। এই গ্রামের লোকেরা সত্যিই অনেক ভালো। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের কেন্দ্রে কেউ যদি কোনো ধরনের গুলমাল করার চেষ্টা করে, তাহলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী ও তার জোট শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো সিএনজি স্টেশন, অটো-স্টেশন, খাল-বিল কিংবা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি-সম্পদ দখলের রাজনীতিতে জড়িত নয়। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জোটের কোনো কর্মী বা ভোটারকে ভয় দেখানো কিংবা চাপ সৃষ্টি করা হলে তা কঠিন হাতে প্রতিহত করা হবে।উল্লেখ্য, নেত্রকোণা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তাঁকে পরাজিত করে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে ১০ দলীয় জোট হাওরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। পথসভা ও গণসংযোগকালে জোট নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।