
সুমন মাহমুদ শেখ (স্টাফ রিপোর্টার) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর রাব্বি (২২) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান পলাতক আসামি মো. টুটুল মিয়াকে (২৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপিতে র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এরআগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার সোনালী ব্যাংক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহত রাব্বি মিয়ার সাথে ঘাতক টুটুল ও তার সহযোগীদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ২ মার্চ ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে মোহনগঞ্জ পৌরসভা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন পুকুরের পশ্চিম পাড়ে রাব্বীকে একা পেয়ে আক্রমণ করে আসামিরা। এসময় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ধারালো চাকু দিয়ে রাব্বির বুকের পাঁজর লক্ষ্য করে আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা আনিছ মিয়া বাদি হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই র্যাব-১৪ (সিপিসি-২) এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘ ১০ মাস পলাতক থাকার পর, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে আসামি টুটুল ময়মনসিংহের নান্দাইলে অবস্থান করছে কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার রাতে নান্দাইল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। র্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের পরের দিন নিহতের বাবা বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছিল। তারা হলেন- টেংগাপাড়া এলাকার সবুজ মিয়ার ছেলে রাফি মিয়া (২৩) ও নওহাল এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সুজন মিয়াকে (২৪)।