
সুমন মাহমুদ শেখ/ নেত্রকোনা সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনের ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দুই মিনিট ৪৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলে বসেই তিনি একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছেন এবং টাকার অঙ্ক নিয়ে দর কষাকষি চলছে।ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদার ইমরান হোসেনকে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল (৫০ হাজার টাকা) দেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে টাকার সেই বান্ডিলটি ঠিকাদারের দিকে বারবার ছুড়ে মারেন। পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং প্যান্টের বাম পকেটে রাখেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন ভিডিওর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি রাস্তার কাজের বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ওই ঠিকাদার টাকা দিচ্ছিলেন। কেউ ভিডিও করছে তা বুঝতে পারিনি। তবে অফিসে বসে এভাবে টাকা নেওয়া আমার ভুল হয়েছে।”অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা সদরেই কর্মরত। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনও সদর উপজেলা কার্যালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান বলেন, “ভিডিওটির বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”