
ঈশ্বরগঞ্জ (প্রতিনিধি) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কেটে সেই জায়গায় দোকান নির্মাণের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ফরিদ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সড়কের পাশের একটি কাঁঠাল গাছ গভীর রাতে কেটে ফেলা হয়। শুধু গাছ কাটা নয় গাছের গুঁড়িসহ গোড়ার অংশও তুলে ফেলে মাটি চাপা দেওয়া হয়। যেন সেখানে কোনোদিন গাছ ছিলই না। ভোরে এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ঘটনাস্থল খুঁড়ে গাছের গোড়া বের করেন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার-এ টিন, কাঠ ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ফলে পরিষদে সেবা নিতে আসা মায়েরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। একটি সংরক্ষিত ও মানবিক সেবাস্থলকে এমনভাবে ব্যবহার করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে এটা কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়?স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন,রাতে গাছ কাটা হয়েছে। সকালে দেখি গাছের গুঁড়ি পর্যন্ত মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা। আমরা নিজেরাই খুঁড়ে বের করেছি। এটা স্পষ্টভাবে সরকারি সম্পদ নষ্ট করা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবু সাঈদ ফরিদ দাবি করেন, এখানে একটি মরা কাঁঠাল গাছ ছিল এবং চেয়ারম্যানকে জানিয়েই তা কাটা হয়েছে।এ বিষয়ে সরিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরাম হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছেন। তবে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণারে নির্মাণসামগ্রী রাখার ঘটনাকে তিনি ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন।সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস স্পষ্ট ভাষায় বলেন,সরকারি জায়গার গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।