
পরেশ দেবনাথ, (নিজস্ব প্রতিনিধি)যশোরের কেশবপুর উপজেলায় তীব্র জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে কিংবা অল্প তেল নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন শ্রমিকসহ সাধারণ জনগণ।সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পে তেল আসার আগেই শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকেই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০টি যানবাহনে তেল সরবরাহ করার পরই পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি জানান, “আমরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাই না। ২-৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ১০০-২০০ টাকার তেল দিয়ে কোনো কাজ হয় না। এতে আমাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, কাজ ব্যাহত হচ্ছে, আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।”এ বিষয়ে তেল পাম্প মালিকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, “আমরা কোম্পানি থেকে খুব অল্প পরিমাণে তেল পাচ্ছি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাই আমরা বাধ্য হয়ে সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছি।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সংকটের পেছনে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কোথা থেকে এবং কীভাবে এই সংকট তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য কেউ দিতে পারছে না।এ অবস্থায় কেশবপুরের সাধারণ মানুষ দ্রুত এর সমাধান দাবি করছেন। তারা বলেন, “এভাবে আর চলতে পারে না। আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।”স্থানীয় জনগণ গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে তেল সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমপি মহোদয় ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।জনগণের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সংকট নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং কেশবপুরসহ সারাদেশের মানুষকে এ ধরনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেবেন।