
আব্দুর রশিদ (সাতক্ষীরা)সাতক্ষীরার দেবহাটায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেওয়া দুস্থদের ১০ কেজি ভিজিএফের চাল আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় শামীমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে পথরোধ করে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এসময় ওই গৃহবধূর শ্লীলতাহানিসহ প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।গত ২০ মে (বুধবার) বিকেলে উপজেলার টিকেট গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ শামীমা আক্তার বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ দেবহাটা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।মামলার আসামিরা হলেন— টিকেট গ্রামের মোঃ সালামত হোসেন বাবু (৩২), মফিজুল শেখ (৪০), মোছাঃ আশুরা খাতুন (৩০) এবং খুকুমনি (৩০)।এজাহার সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গরীব ও দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হচ্ছিল। উপজেলার টিকেট গ্রামের শামীমা আক্তারের ননদ নীলিমা খাতুন অসুস্থ থাকায় তার চাল আনার জন্য শামীমা ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ১নং আসামি সালামত হোসেন বাবু কৌশলে তার ননদের চাল তুলে আত্মসাৎ করেছেন। পরে শামীমা বিষয়টি গ্রাম পুলিশকে জানালে গ্রাম পুলিশ চাল উদ্ধার করে শামীমাকে বুঝিয়ে দেন। এতে শামীমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয় আসামি সালামত হোসেন।চাল চুরির ঘটনার জের ধরে গত ২০ মে বিকাল আনুমানিক ৫টার সময় শামীমা আক্তার সাতক্ষীরা কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে আসামিরা লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে। ১নং আসামি সালামত হোসেন শামীমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দুই হাত দিয়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। ২নং আসামি মফিজুল শেখ তার তলপেটে লাথি মেরে গুরুতর জখম করে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়।মারধরের একপর্যায়ে ৩নং আসামি আশুরা খাতুন শামীমার দুই কান থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের দুল এবং ১নং আসামি সালামত তার গলা থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ৪নং আসামি খুকুমনি লাঠি দিয়ে শামীমার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান, তবে আঘাতটি তার বাম হাতের কনুইতে লেগে গুরুতর জখম হয়।আহত শামীমার চিৎকার শুনে স্থানীয় মোছাঃ কুলছুম খাতুন, নীলিমা খাতুন ও ফরহাদ হোসেনসহ আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সখিপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ না হওয়ায় স্বামী ফরহাদ হোসেনের মাধ্যমে থানায় লিখিত এজাহার পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী শামীমা আক্তার।এ বিষয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের (ডায়াল) করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে একজন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।