
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্(হাওরাঞ্চল)টাঙ্গুয়ার হাওর,,, এটি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার একাংশ,এর উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সিমানা নিয়ে গঠিত এই টাঙ্গুয়ার হাওর। এটি ১২৬ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হাওর, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি।দর্শনীয় স্থানগুলি মধ্যে আছে:১/ওয়াচ টাওয়ার: এটি হাওয়ারের বলাই নদীর পাশ ঘেঁষে অথৈ জলরাশির মধ্যে হিজল করস গাছের এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অবলীলায় মনকে মাতিয়ে তোলে, ও হাওয়ারের সৌন্দর্য অন্যভাবে অবলোকন করতে সাহায্য করে।২/ শিমূল বাগান: এটি জয়নাল আবদিন পার্ক নামেও পরিচিত,এটি ১০০ বিগা বালি পাথর ও পলি মাটির উপর ৩ হাজার শিমুল গাছ দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধভাবে,যেকোনো দিক থেকে যেকোনো অ্যাঙ্গেলে তাকানো হোক না কেন গাছের সারিবদ্ধ ঠিক একই থাকে এ যেন এক অবলীলা, আর ফাগুনের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে রক্ষীন আভা ছড়ানো শিমুল ফুল, বসন্তের শুরুতেই গাছের ডালে ডালে লাল আগুন রাঙ্গা ফুলের প্রকৃতিকে এক অপরূপ রুপদেয়, আর এই ফুল শুধু প্রকৃতিক সৌন্দর্যই নয় এর আছে অর্থনৈতিক গুরুত্ব।৩/বারেক টিলা : এটি বারিক্কা টিলা নামে পরিচিত তার গর উচ্চতা প্রায় ১০০’ থেকে ১৫০’হবে, এর এক দিকে ভারতের বিশাল মেঘালয় পাহাড়রে সারি অন্য দিকে যাদুকাটা নদীর সচ্ছ শীতল জলরাশি।এছাড়াও টাঙ্গুয়ার হাওরকে নিয়ে আরো সাতটিরও বেশী দর্শনীয় স্থান রয়েছে।বড়ছড়া সহ ছোট বড় মিলে প্রায় ৩০ টিরও বেশি পাহাড়ি ঝরনা ছড়া বেয়ে এসে পড়ে টাঙ্গুয়ার বুকে। আর ঝরনার শীতল জলধারা চারপাশের প্রকৃতির সৌন্দর্য ভ্রমন পিপাসুদের দারুন ভাবে মুগ্ধ করে।টাঙ্গুয়ার হাওয়রে আছে ছয়কুড়ি খাল ছয়কুড়ি বিল নয়কুড়ি কান্দা, আর এই বিশাল জলরাশীতে আছে প্রায় ১৪০ প্রজাতির দেশীয় সুস্বাদু মাছ। এটি দেশের ২য় বৃহত্তম মিঠাপানির মৎস্য ভান্ডার।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত আহরণ অবৈধ শিকার ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে মাছের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।এছাড়াও টাঙ্গুয়ার হাওরে আসে সেই সুদূর সাইবেরিয়া মঙ্গোলিয়া হিমালয় সহ,বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসা লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখি। তারা হাওয়ারের মাছ ও কীটপতঙ্গ আহার করে, জীববৈচিত্রের সমৃদ্ধ রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ শিকারে পাখিদের ডানা জাপ্টানো কমতে শুরু করেছে।হওয়ার পরের মানুষের জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস ধান। টাঙ্গুয়ার হাওর মূলত একটি নির্দিষ্ট জলাভূমি হওয়ার কারণে পরিসংখ্যান অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোন ভূমির পরিমাপ নেই,তবে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার কারণে মানুষের কষ্টের সুনালী ফসল তলিয়ে যায়।এবার আসি মূল কথায়:এতসব নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এসে আনন্দ উপভোগ করে। ভ্রমণ করা ভালো আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করিলে সৃষ্টির স্রষ্টাকে চেনা যায়, ও চক্ষু শীতল হয়।তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখতে পারতেছি যে বিভিন্ন এলাকা থেকে সঙ্গবদ্ধভাবে হাউস বোট ভাড়া করে কিছু কিছু উড়তি বয়সের তরুণেরা মদপান করে মাতাল হয়ে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে খারাপ অঙ্গভঙ্গিতে নাচানাচি করে। ইদানিং নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে চলছে, আর খাবার খেতে প্লাস্টিকের তালা বাসুন ও পলিথিন সহ প্লাস্টিকের বোতল হাওয়রে ফেলে দেয়ার জন্য ফসিল জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। মদপান করে কাচের বোতল হাওয়ারে ফেলে দিচ্ছে, পরবর্তীতে জমিতে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষাবাদ করার সময় সেই কাঁচের বোতল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে জমিনে পড়ে থাকে।আর ধান রোপণের সময় ওই কাঁচের টুকরো কৃষকের হাত-পা দিয়ে ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীর কৃষকরা জমিনের চাষাবাদ করতে কষ্ট হবে, আর নষ্ট হবে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাচীন ঐতিহ্য।