
আব্দুর রশিদ (সাতক্ষীরা)বিচ্ছিন্ন কব্জি পুনঃসংযোগের কয়েকদিন পর দ্বিতীয়বার অপারেশন,এমন জটিল অপারেশন প্রথমবার ব্যর্থ হলেও আমরা আশাবাদী -চিকিৎসকরাসাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস্ বিভাগের চিকিৎসকদের ৬ ঘন্টার অপারেশনে বিচ্ছিন্ন কব্জি পুনঃসংযোগের কয়েকদিন পর দ্বিতীয়বার অপারেশনের মাধ্যমে পুনঃসংযোজন অংশটি কেটে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এমন জটিল অপারেশন প্রথমবার ব্যর্থ হলেও আশাবাদী আগামীতে এ ধরনের অপারেশনে আমরা সাকসেস হবোই। এ ধরনের রোগীকে ঘটনার ৬ ঘন্টার ভিতরে অপারেশন করতে না পারলে সকল চেষ্টায় ব্যর্থ হবে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. প্রবীর কুমার দাস ও ডা. বি. কে. মন্ডল-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম প্রায় ৬ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ ও জটিল অপারেশন পরিচালনা করেন। আধুনিক মাইক্রোসার্জারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচ্ছিন্ন হাতের স্নায়ু, রক্তনালী, হাড় ও পেশি সফলভাবে পুনঃসংযোগ করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, এটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে প্রথম সফল হাত পুনঃসংযোগ (রিপ্লান্টেশন) অপারেশন, যা চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।ডাঃ বি.কে মন্ডল আরও বলেন,অভিজিৎ রায়(১৮)কে গত বুধবার কব্জি হতে বিচ্ছিন্ন অংশকে দীর্ঘ ৬ ঘন্টা অপারেশন এর মাধ্যমে পুনঃসংযোজন করা হয়, যেটাকে রিপ্লান্টেশন সার্জারী বলা হয়। এটার সফলতার হার ৬০%। পুনঃসংযোজনের ৯ থেকে ১০ দিনের পর এটার পরবর্তী ফলাফল বুঝা যায়, বিচ্ছিন্ন অংশের দূরবর্তী অংশের রক্ত চলাচল অব্যাহত না থাকায় কব্জির উপরের অংশ হতে পুনরায় বিচ্ছিন্ন অংশটিকে অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সাতক্ষীরা মেডিকেলে জটিল অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে রোগীদের আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা খুলনায় ছুটতে হচ্ছে না।এই সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রমাণ হলো—সঠিক দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে জেলা পর্যায়েও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।উল্লেখ্য সরিষা মাড়াই মেশিনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যুবক অভিজিৎ সাধু আশাশুনি উপজেলার কুন্দুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা অমল সাধু এবং মা সুমিতা সাধু। আহত অভিজিৎ সাধু জানান, প্রথম অপারেশনের পর কিছুটা সমস্যা থাকলেও দ্বিতীয় অপারেশনের পর তিনি বর্তমানে অনেকটা ভালো আছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগ বর্তমানে অত্যন্ত উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। চিকিৎসকরা রোগীদের প্রতি আন্তরিক ও যত্নশীল।