
পরেশ দেবনাথ, (নিজস্ব প্রতিনিধি) যশোরের কেশবপুর উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ-কাঠ নির্মিত ব্রিজটি সংস্কারকল্পে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এগিয়ে এলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি ব্রিজটি সংস্কারের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।শুক্রবার (১৫ মে-২৬) বিকেলে ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদীর ওপর নির্মিত বাঁশ-কাঠ নির্মিত ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শন শেষে ব্রিজ সংস্কার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় দায়িত্বশীলদের আবেদনে এবং ব্রীজটি সংস্কার উপযোগী হওয়ায় তাদের উপস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।স্থানীয়রা জানান, ত্রিমোহিনী বাজারের মধ্য দিয়ে কপোতাক্ষ নদীর ওপর নির্মিত বাঁশ ও কাঠের তৈরি ব্রীজটি কেশবপুর ও কলারোয়া উপজেলার হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভারী মালামাল ও যানবাহন চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।এ অবস্থায় ঘাট সংস্কার কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের দায়িত্বশীলরা সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মোঃ সাইদুর রহমান সাঈদ, ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আলফাজুর রহমান, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোঃ হাসানুজ্জামান, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।এসময় নায়েবে আমীর মোঃ সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমরা এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ত্রিমোহিনী কপোতাক্ষ নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনা চলছে। এলাকাবাসী ধৈর্য ধরলে ইনশাআল্লাহ একটি স্থায়ী সমাধান হবে।সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, কপোতাক্ষ নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এই ব্রিজ নির্মাণ হলে কেশবপুর ও কলারোয়া উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কষ্ট কাছ থেকে দেখেছি। তাই আপাতত ঝুঁকি কমাতে ব্রীজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে সাঁকো সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে অর্থ হস্তান্তর করেন। এলাকাবাসী এমপি মহোদয়ের আশ্বাসবাণীতে অত্যন্ত খুশিপ্রকাশ করেন।